'শৃঙ্খলাবোধ' নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম উপায়। ঈশ্বর জীব ও জগৎ সৃষ্টি করেছেন। ঈশ্বরের সৃষ্টির মধ্যে একটা শৃঙ্খলা রয়েছে। তেমনি আমরাও আমাদের জীবনে আনব শৃঙ্খলাবোধ। ঈশ্বরের শৃঙ্খলাবোধের প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সৃষ্টিকর্মে। আমরাও আমাদের নিজেদের জীবনে ও আচরণে শৃঙ্খলা বোধের প্রকাশ ঘটাব।
পারিবারিক জীবনে একটি পরিবারের সদস্যগণ পরস্পরের সঙ্গে নানা ভাবে জড়িত। তাই নিজের অধিকার ভোগ করার সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে। এ সত্য আমরা যেন ভুলে না যাই।
সমাজের ক্ষেত্রেও সমাজের সকল সদস্যের এককভাবে এবং সম্মিলিত ভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। আর তা করতে গিয়েই কতগুলো নৈতিক মূল্যবোধের উদ্ভব ঘটেছে। যেমন- সততা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, সেবা, সৌহার্দ্য, একতা, সত্যবাদিতা, জীবসেবা, দয়া, কর্তব্যনিষ্ঠা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।
ধর্মও সকল নৈতিক মূল্যবোধকে তার উপদেশ ও অনুশাসনে পরিণত করেছে। হিন্দুধর্মগ্রন্থে ধর্মের যে দশটি বাহ্য লক্ষণের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে অহিংসা, সত্যবাদিতা, অক্রোধ বা রাগ না করা, ধীশক্তি, বিদ্যা, সংযম ইত্যাদি। যিনি ধার্মিক, তিনি এগুলো পালন করেন। আর এভাবেই নৈতিক মূল্যবোধ পরিণত হয় ধর্মীয় অনুশাসনে। আবার ধর্মীয় অনুশাসন থেকে তৈরি হয় নৈতিক মূল্যবোধ।
নিজের মুক্তি বা মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণ- এই হচ্ছে হিন্দু ধর্মের একটি মূল কথা।
জীবকে ঈশ্বর জ্ঞান করলে আর কোনো সংকীর্ণতা থাকতে পারে না। কারণ ঈশ্বরকে ভক্তি করা, তার সেবা করা আমাদের ধর্মীয় তথা নৈতিক কর্তব্য। সততা, ভক্তি-শ্রদ্ধা, দয়া-মায়া-স্নেহ প্রভৃতি সূত্রে যদি গোটা পরিবার বাঁধা থাকে, তাহলে পারিবারিক জীবন নৈতিকতায় মণ্ডিত হবেই।
সমাজ জীবনের ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। সমাজ ও জীবনকে সত্য, সুন্দর ও শান্তি মন্ডিত করা নৈতিকতার লক্ষ্য। ধর্মও তাই। সুতরাং ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতা অনুসরণ এবং অনুশীলন করে আমরা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ গঠন করতে পারি।
| দলগত কাজ: নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের উপায় লিখে একটি পোস্টার তৈরি কর। |
নতুন শব্দ: ধীশক্তি, সৌহার্দ্য, সংকীর্ণতা, মণ্ডিত।
Read more